দাম কমায় গত মাসে পাম অয়েল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। দেশটির শীর্ষ শিল্প সংগঠন সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (এসইএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
এসইএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে ভারতের মোট পাম অয়েল আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৩২ হাজার ৩৪১ টন। এটি অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ ভারত। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশটির আমদানি বাড়ার কারণে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মজুদ কমতে পারে। এতে ফিউচার মার্কেটে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে পাম অয়েলের দাম।
বর্তমানে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম সমপরিমাণ সয়াবিন তেলের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার কম এবং সূর্যমুখী তেলের তুলনায় প্রায় ২০০ ডলার কম। এ কারণে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য ভারতীয় ক্রেতারা পাম অয়েল আমদানি বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈশ্বিক একটি ট্রেডিং হাউজের সঙ্গে যুক্ত মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার।
এসইএ আরো জানায়, তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলের আমদানি কমিয়েছে ভারতের পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সময় দেশটিতে সয়াবিন তেল আমদানি ১৮ শতাংশের বেশি কমে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৬১ টনে নেমেছে। সূর্যমুখী তেলের আমদানি ৪৫ শতাংশ কমে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৩ টনে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ক্রয় কমে যাওয়ায় নভেম্বরে ভারতের মোট ভোজ্যতেল আমদানি আগের মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ১১ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে এসইএ। সংস্থাটি আরো জানায়, নভেম্বরে চীন থেকে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৯১৯ টন সয়াবিন তেল আমদানি করেছে ভারত। চীনের প্রক্রিয়াকারীদের কাছে সরবরাহ উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ায় তারা ছাড়ে বিক্রি বাড়িয়েছে।
ভারত মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে।